বহু প্রাচীন, বহু প্রসংশিত এবং ঐতিহ্যমন্ডিত মোহিনী সিঁদুর :-
স্বর্গীয় চন্দ্রকিশোর সিদ্ধান্ত বাগিশ প্রণীত দশমহাবিদ্যাদ্বারা ৺মা তারার তন্ত্রমতে নির্মিত মোহিনী সিঁদুর ব্যবহারে মামলায় নিশ্চিত জয়লাভ, গোপন শত্রূতা, পারিবারিক আর্থিক সমস্যার সমাধান হয়ে থাকে। এছাড়াও শত্রূ দমন, অভিনয় দক্ষতা ও সন্মান বৃদ্ধিতে মোহিনী সিঁদুর বিশেষভাবে সহায়ক। সন্তানহীনার সু-সন্তান লাভ, সাংসারিক অশান্তি, অবাধ্য সন্তানকে বাধ্য করা, প্রেমে হতাশা দূর করা, হারানো জিনিস প্রাপ্তি, চাকুরী লাভ, কর্মে বা ব্যবসায় উন্নতি, বশীকরণ, সুখ ও সমৃদ্ধিপূর্ণ দাম্পত্য জীবন লাভ, অকাল মৃত্যু, অবিবাহিত পুরুষ বা মহিলাদের সত্ত্বর বিবাহসাধন, মাঙ্গলিক দোষ, শনির সাড়ে সাতি, শনির দশা, রাহুর দশা, কাল সর্পদোষ, ভৌম দোষ, গুরুচন্ডাল দোষ, দারিদ্র যোগ খন্ডন, লটারীতে অর্থ প্রাপ্তি, বিদ্যায় উন্নতি, ঋণ থেকে মুক্তি ইত্যাদি যে কোনো দুরূহ সমস্যার দ্রুত এবং সহজ সমাধান সঠিকভাবে এই সিঁদুর ব্যবহারের ফলে সম্ভব।
জ্যোতিষীগণ ও তান্ত্রিকগণ তন্ত্রের প্রয়োজনে এবং সঙ্কটমোচনের বিভিন্ন কাজে বা মনোস্কামনা পূরণে এই মহাশক্তিশালী এবং দ্রুত কার্যকরী মোহিনী সিঁদুর ব্যবহার করে থাকেন।
যে কোন বিপদ, ঝঞ্ঝাট বা দুর্ঘটনা অথবা শত্রূতায় রক্ষাকর্তা হিসাবে ৺মা তারার আশীর্বাদে প্রস্তুত মোহিনী সিঁদুর নিশ্চিন্ত মনে ব্যবহার করতে পারেন। এই মোহিনী সিঁদুর সম্পূর্ণ তন্ত্রমতে প্রস্তুত। সম্পূর্ণ দৈবশক্তি দ্বারা নির্মিত এই মোহিনী সিঁদুর ব্যবহারে যারা উপকৃত হয়েছেন তাদের অসংখ্য প্রশংসা পত্র আমরা পেয়েছি কিন্তু সামাজিক কারণে তাদের নাম, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর প্রকাশ করা হোলো না।
বিদ্যায় বাধা, চাকুরী ও ব্যবসায় অসফলতা, প্রেম ও প্রণয় ঘটিত সমস্যা, দাম্পত্য কলহ, সাংসারিক সমস্যা, শনির ধাইয়া-র কারণে জীবন বিপর্যস্ত, এই ধরণের যে কোনো সমস্যার সমাধানে সম্পূর্ণ তন্ত্রমতে প্রস্তুত এবং তীব্র ক্ষমতা সম্পন্ন মোহিনী সিঁদুর ব্যবহার করে সুফল লাভ করুন।
তন্ত্রশাস্ত্রে এই ক্রিয়া দ্বারা অল্প সময়ের মধ্যে নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে যে কোনো ব্যক্তিকে বশীভূত করা যায়। এটি একটি ফলদায়ক ক্রিয়া, মনের মতো প্রেমিক বা প্রেমিকাকে বশীভূত করে প্রণয় সাধন, শত্রূ বা অফিসের শীর্ষ স্তরের কর্মচারীকে বশীভূত করে কার্যসিদ্ধি করতে, অবাধ্য স্বামী বা স্ত্রী এবং অবাধ্য সন্তানকে বশীভূত করে নিজের মনের মতো পরিচালিত করতে সঠিকভাবে এই সিঁদুর ব্যবহার করলে সমস্যার নিরসন ঘটবে। তবে এটা মাথায় রাখতে হবে যে বশীকরণ কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। যিনি বশীকরণ করতে চান তাঁর জন্মকুণ্ডলীতে খারাপ সময় চললে আকাঙ্খিত ফললাভে বিলম্ব হতে পারে। তাই সঠিক জ্যোতিষ বা তান্ত্রিকের পরামর্শ মেনে এই মোহিনী সিঁদুর ব্যবহার করলে আশাতীত ফললাভ হবে।
মোহিনী সিঁদুর কিভাবে ব্যবহার করলে আপনি সফল হবেন :-
অবাধ্য স্বামী / স্ত্রী / প্রেমিক / প্রেমিকাকে বশে রাখতে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে উত্তর দিকে মুখ করে বসে একটি অখণ্ড ভোজপত্রের উপর স্বামী / স্ত্রী / প্রেমিক / প্রেমিকার পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি রাখতে হবে। প্রথমে ছবির উপর নিজ শরীরের রক্ত মনোস্কামনাপূর্বক তিন বার ছিটিয়ে দিন। অতঃপর নিজ শরীরের মল এবং ঘাম তিন বার করে ছবির উপর দিতে হবে। অতঃপর মনোস্কামনাপূর্বক নিম্নলিখিত মন্ত্রে অভিমন্ত্রিত করে মোহিনী সিঁদুর ওই ছবিটির উপর দিন। তারপর ভোজপত্রটি খুব ভালো করে ছোট আকারে অর্থাৎ ছবির মাপের আকারে ভাঁজ করে মুখ বন্ধ করুন। খেয়াল রাখতে হবে যেন ভোজপত্র থেকে কোনো দ্রব্য বেরিয়ে মাটিতে না পড়ে। তারপর ওই ভোজপত্রটিকে আপনার শোবার ঘরে উত্তর-পশ্চিম দিকে কোনো ভারী জিনিসের নিচে চাপা দিয়ে মাটিতে স্থাপন করুন এবং সকাল, দুপুর এবং সন্ধ্যায় ভক্তি সহকারে একুশ দিনে একুশ বার নিম্ন লিখিত মন্ত্রে আপনার প্রিয় মানুষটিকে মনে করে ওই ভোজ্যপত্রটির দিকে তাকিয়ে পূজা করুন।
মন্ত্র :- ” ওঁ ক্লিং সঃ অমুকং মে বশং কুরু কুরু স্বাহা ”
অমুকং-এর স্থানে আপনার প্রিয় মানুষটির নাম বলিবেন।
অতঃপর যতদিন কার্যসিদ্ধি না হয় ততদিন প্রত্যহ স্নানের পরে মোহিনী সিঁদুর গাভী দুগ্ধের সাথে মিশিয়ে মনোস্কামনাপূর্বক কপালে তিলক প্রদান করুন। তিলক প্রদানের আগে উপরে উল্লিখিত মন্ত্রে সাতবার জপ্ করে অভিমন্ত্রিত করে নেবেন।
শারীরিক কষ্টের থেকে মুক্তি পেতে :-
যতক্ষণ না সুস্থ হতে পারছেন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিজে এই নিম্নলিখিত প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যান। চারটি চুম্বকের টুকরো এবং চারটি লোহার পেরেক সংগ্রহ করুন। আপনার শোবার ঘরের চারকোণে একটি করে চুম্বক ও পেরেক একসাথে অল্প গর্ত করে পুঁতে দিন। যাদের ঘরের চার কোণে গর্ত করা সম্ভব নয় তারা চারটি কাঁচের পাত্রে একটি করে চুম্বক ও পেরেক একসাথে রেখে পাত্রগুলির মুখ বন্ধ করে ঘরের চার কোনায় রাখুন। অতঃপর প্রত্যহ বাড়িতে সকাল ও সন্ধ্যায় ” ওঁ নমঃ শিবায় ” মন্ত্রটি একশো আটবার পাঠ করে মোহিনী সিঁদুর গাভীদুগ্ধে মিশিয়ে মনোস্কামনাপূর্বক কপালে তিলক প্রদান করুন। এতে ধীরে ধীরে সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবেন।
বিবাহ সংক্রান্ত বাধা বিঘ্ন নিরসন :-
প্রতি বুধবার এবং শুক্রবার গন্ধপুষ্প, ধুপ, দীপ, সাতটি নৈবেদ্য, জোড়া প্রজাপতি (কৃত্ৰিম) ভক্তি সহকারে পূজা করিবেন এবং সন্ধ্যায় সর্ষের তেলের চারমূখী প্রদীপ এবং হলুদ রঙের মোমবাতি জ্বালাবেন। প্রত্যহ স্নানের পরে নিম্নলিখিত মন্ত্রটি ১০৮ বার করে জপ করবেন।
মন্ত্র : ” ওঁ হ্রিং কুমারিয়ায় নমঃ স্বাহা ”
অতঃপর পূর্বদিকে মুখ করে মোহিনী সিঁদুর গাভীদুগ্ধের সাথে মিশিয়ে মনোস্কামনাপূর্বক কপালে তিলক প্রদান করবেন যতদিন পর্যন্ত না কার্যসিদ্ধি হয়।
সন্তান অবাধ্য হলে :-
বাড়ির উত্তর দিকে একটি তুলসীগাছ রোপন করুন। রোজ সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালান এবং পূর্ব দিকে মুখ করে ঠাকুর স্থানে শুদ্ধ আসনে বসে স্ফটিকের মালায় নিম্নলিখিত মন্ত্রটি ১০৮ বার জপ করুন।
মন্ত্র : ” ওঁ নমঃ ভগবতে বাসুদেবায় ”
অতঃপর “ওঁ আং অং স্বাহা”মন্ত্রে মোহিনী সিঁদুর হাতে নিয়ে সাতবার অভিমন্ত্রিত করে গাভীদুগ্ধের সাথে মিশিয়ে মনোস্কামনাপূর্বক কপালে তিলক প্রদান করুন। কার্যসিদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি চালাতে থাকলে সুফল অবশ্যই মিলবে।
গৃহে অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে :-
কোনো কাজে যাবার আগে সর্বদা ঈশ্বর প্রণাম করুন। সকালে স্নানের পরে সূর্য প্রণাম করুন। বাড়ির উত্তর দিকে তুলসী গাছ এবং বাড়ির সদর দরজার ডানদিকে শ্বেত আকন্দের গাছ রোপন করুন। সোম ও শুক্রবার তিনটি ফল ও নীল, সাদা ও হলুদ রঙের ফুল সহযোগে ভগবান শিবের পুজো করুন। ” ওঁ নমঃ শিবায় ” মন্ত্র ১০৮ বার জপ করুন। অতঃপর মোহিনী সিঁদুর গাভীদুগ্ধের সাথে মিশিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে মুখ করে সাত বার অভিমন্ত্রিত করে মনোস্কামনাপূর্বক কপালে তিলক প্রদান করবেন। বাড়ির পশ্চিম দেওয়ালে সোনালী ফ্রেমে পরিবারের সকল সদস্যদের ফটো একত্রে রাখবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি কার্যসিদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত কোনোরূপ ছেদ না পড়ে।
বাস্তুতে বারংবার প্রাণহানি হলে :-
প্রতি শনি এবং মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ির মূল দরজার দুই পাশে সর্ষের তেলে চারমূখী মাটির প্রদীপ জ্বালান। অমাবশ্যার রাত থেকে শুরু করে পরবর্তী তিনটি অমাবশ্যার রাত পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যায় নারিকেল ছোবড়ার সাথে যোগ্য সামগ্রিক দ্রব্য দিয়ে সারা বাড়িতে ধোয়াঁ দেখান। সারা বাড়ি প্রদক্ষিণ হয়ে গেলে বাড়ির পশ্চিম দিকে পাত্রটি রেখে দেবেন। অতঃপর সন্ধ্যায় ” ওঁ ক্ষ্যাং ক্ষেত্র ফলায় নমঃ” এই মন্ত্রে স্ফটিকের মালায় জপ করবেন, জপ শেষে মোহিনী সিঁদুর গাভীদুগ্ধে মিশ্রিত করে মনোস্কামনাপূর্বক পরিবারের সকলে হনুমানের নাম স্মরণ করে কপালে তিলক প্রদান করবেন। এর ফলে পরিবারের আয়ুজনিত সমস্যা হ্রাস পাবে।
তন্ত্রক্রিয়া / ব্ল্যাকম্যাজিক / নজর দোষ :-
বাড়ির ব্রহ্মস্থল পরিষ্কার এবং শুদ্ধ করে একটি কালো পাথরের বাটিতে গঙ্গাজল রাখুন। তাতে দূর্বা, তুলসীপাতা ও পান সহযোগে উক্ত পাত্রটি শোবার ঘরে খাটের নিচে অথবা উত্তর পূর্ব কোনে রেখে দিন। রাত্রে শোবার সময় তিনবার করে বলুন ” ওঁ পরমাত্মনে পরমব্রহ্ম: নমঃ “। এইভাবে তিন রাত কাটাতে হবে। চতুর্থদিন সকালে উক্ত পাত্র থেকে জল নিয়ে সারা বাড়িতে ছিটিয়ে দিন। স্নানের পরে শুদ্ধাচারে সকলের বালিশের মধ্যে স্বেতচন্দন সহযোগে ময়ূরের পালক রেখে দিন। উক্ত দিন থেকে পরিবারের সকলে ৫৪ দিন পর্যন্ত স্নানের পরে মোহিনী সিঁদুর গাভীদুগ্ধে মিশিয়ে মনোস্কামনাপূর্বক প্রত্যেকের কপালে তিলক প্রদান করুন। উপায়টা খুব সহজ এবং তান্ত্রিক উপায়ে ভীষণ ফলদায়ী। যে কোনো ব্যভিচারী তন্ত্রক্রিয়া থেকে মুক্তি পেতে ইহা একটি সার্থক প্রচেষ্টা।
শাশুড়ি এবং বৌমার কলহ নিবারণ :-
শাশুড়ি এবং বৌমা যে কোনো একজনের শোবার ঘরের পূর্বদিকের দেওয়ালে পাঁচটি কৃত্রিম প্রজাপতি রাখুন। প্রতিদিন সকালে অথবা রাত্রে পূর্বদিকে দুটি হলুদ রঙের ফুল রেখে ২১ বার নিম্নলিখিত মন্ত্র মন্ত্রটি জপ করুন। মন্ত্র : ওঁ হ্রিং হং স্বঃ ” । অতঃপর যতদিন না আশানুরূপ ফললাভ হয় ততদিন মোহিনী সিঁদুর গাভীদুগ্ধের সাথে মিশিয়ে মনোস্কামনাপূর্বক কপালে তিলক লাগান।
স্বামী-স্ত্রীর মনের মিল না হলে :-
পূষ্যা নক্ষত্রে কতিলা, ব্রহ্মদন্ডি, বচ, একাঙ্গী, ধূনা একত্রে চূর্ণ করে একটি পাত্রে রাখুন। রক্তচন্দন, জবাপুষ্প, ধুপ, দীপ এবং নৈবেদ্য সহকারে ওই দিন সন্ধ্যায় মা বগলার পূজা করুন। এই পূজা আপনি নিজে করুন। পূজার সময় নারিকেলের ছোবড়ার আগুনে ওই পঞ্চচূর্ণ নিক্ষেপ করুন সেই সঙ্গে নিম্ন লিখিত মন্ত্র ১০৮ বার জপ করুন। মন্ত্র : ” ওঁ হ্রিং ক্লিং ক্রিং বগলায় নমঃ ” (১০৮ বার)। পূজার শেষে খানিকটা প্রসাদ বাড়ির ছাদে অথবা কোনো নির্জন স্থানে রেখে আসুন। অতঃপর টানা ১০৮ দিন স্নানের পরে মোহিনী সিঁদুর গাভীদুগ্ধের সাথে মিশিয়ে মনোস্কামনাপূর্বক নিজের কপালে তিলক প্রদান করুন। এটি অত্যন্ত কার্যকরী তান্ত্রিক বিধি।
উচ্চ শিক্ষায় বাধা পেলে :-
প্রতিদিন সকালে নিম্নলিখিত মন্ত্রটি ১১ বার জপ করে মোহিনী সিঁদুর গাভীদুগ্ধের সাথে মিশিয়ে মনোস্কামনাপূর্বক নিজের কপালে তিলক প্রদান করুন। অতঃপর অধ্যয়ন শুরু করুন। উচ্চশিক্ষায় বাধা দূর হবেই।
মন্ত্র :
“সর্ববাধা প্রশমনং ত্রৈলোক্যস্যাখিলেশ্বরী।
এবমেব ত্বয়া কার্য্যমস্মদবৈরী বিনাশনম॥”

Reviews
There are no reviews yet.