মাঙ্গলিক দোষ

4,999.00

0 People watching this product now!
SKU: JMTT-03 Category:
Description

মাঙ্গলিক দোষ বা ভৌম দোষ কি ?

বিবাহ বিচারের ক্ষেত্রে মঙ্গলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জাতক জাতিকার যোটক বিচারের ক্ষেত্রে উভয়ের রাশি চক্রে মঙ্গলের অবস্থান, দৃষ্টি, দশা-অন্তর্দশা বিচার জরুরি। এছাড়া বিবাহ পরবর্তী জীবন বা দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি তাও মঙ্গলের শুভ-অশুভ বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এবার দেখার বিষয় হোল মাঙ্গলিক দোষ বা ভৌম দোষ কখন হয়। জাতক জাতিকার জন্মকুণ্ডলীতে যদি মঙ্গল লগ্নস্থান, চতুর্থ ঘর, সপ্তম ঘর, অষ্টম ঘর বা দ্বাদশ ঘরে (অর্থাৎ ১ / ৪ / ৭ / ৮ / ১২) অবস্থান করে তবে সেই জাতক জাতিকাকে মাঙ্গলিক দোষযুক্ত বলে ধরা হয়।

 

মাঙ্গলিক দোষ কতটা ভয়ঙ্কর ?

মাঙ্গলিক দোষ যুক্ত জাতক জাতিকার সঙ্গে মাঙ্গলিক দোষ যুক্ত জাতক জাতিকার বিবাহ দেওয়া বাঞ্ছনীয়। নতুবা বিবাহ পরবর্তী জীবনে নানারকম প্রতিকূলতা যেমন ডিভোর্স, স্বাস্থহানী, বন্ধ্যাত্ব, দাম্পত্য-অশান্তি, এমনকি স্বামী-স্ত্রী বিয়োগের সম্ভবনাও থেকে যায়। মাঙ্গলিক দোষের কুফল যে শুধু বিবাহ পরবর্তী জীবনেই দেখতে পাওয়া যায় তা নয়, এই দোষ কোনো জাতক জাতিকার থাকলে তাদের সহজে বিবাহ হতে চায় না। বিবাহে বাধা বিঘ্ন, আকস্মিক গোলযোগ, এমনকি বিবাহ সব কিছু ঠিক হওয়া সত্ত্বেও বারংবার ভেঙে যেতে পারে। এক কথায় বিবাহ পূর্ববর্তী ও বিবাহ পরবর্তী উভয় ক্ষেত্রেই এই মাঙ্গলিক দোষ ঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে।   

বিয়ে আটকে রয়েছে ? বারংবার বিয়েতে বাধা পড়ছে ? বিবাহ জীবনে নিত্য অশান্তি ? এই সব কিছু মাঙ্গলিক দোষের কারণেও হতে পারে। জাতক জাতিকার জন্মকুন্ডলিতে মঙ্গলগ্রহের অবস্থান ঠিক কি রকম থাকলে মঙ্গল দোষ সূচিত হয় ?  ইহা ইতিপূর্বে বিবৃত হয়েছে এতদসত্ত্বেও অনেকেই বুঝতে পারেন না মাঙ্গলিক দোষ বাস্তব জীবনে কতটা প্রভাব বিস্তার করছে, তাই পাঠককুলের সুবিধার্থে এই দোষের লক্ষ্মণগুলি সংক্ষেপে বিবৃত হলো।

১. যোগ্যতা-রূপ-গুণ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ দিন বিবাহ আটকে আছে।

২. সবকিছু ঠিক হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও বিবাহে বারংবার বাধা আসছে।

৩. দেখা শোনা চূড়ান্ত হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও পাত্র বা পাত্রীপক্ষ কোনো এক অজ্ঞাত কারণে আর যোগাযোগ করছেন না।

৪. বিবাহের প্রাক্কালে অনাবশ্যক গোলযোগ, ঝামেলা, অশান্তি।

৫. বিবাহের কিছুদিনের মধ্যেই আকস্মিক বিপদ-আপদ, অশান্তি, গোলযোগ, দাম্পত্য কলহ, অঘটন।

৬. সন্তান ধারণে বাধা-বিপত্তি।

৭. সুস্থ -স্বাভাবিক যৌন অক্ষমতা।

৮. বিবাহ পরবর্তী সময়ে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক।

৯. নিত্যদিন সংসারে অশান্তি, শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন ও দাম্পত্য জীবনে অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ।

১০. স্বামী বা স্ত্রীর আকস্মিক স্বাস্থহানী।

১১. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের উপক্রম।

১২. স্বামী-স্ত্রীর আকস্মিক দুর্ঘটনা।

১৩. স্বামী বা স্ত্রীর অকাল বিয়োগ।

১৪. বিবাহ পূর্ববর্তী বা পরবর্তী উভয়ক্ষেত্রেই আরো নানাবিবিধ সমস্যা এবং সংকট।

তাই জাতক জাতিকার বিবাহ বিচারের ক্ষেত্রে মাঙ্গলিক দোষের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জন্মকুণ্ডলীতে মঙ্গল গ্রহের শুভ-অশুভ প্রভাব কিভাবে জাতক জাতিকার জীবনে প্রভাব বিস্তার ঘটায় তা পাঠকের সুবিধার্থে আলোকপাত করা হলো

জন্মকুণ্ডলীতে মঙ্গলের শুভঅশুভ প্রভাব কতটা ?

– মঙ্গল মেষ ও বৃশ্চিকরাশির নিয়ন্ত্রক রাশি।

– জ্যোতিষ শাস্ত্রে মঙ্গল ভূ-সম্পত্তি, শক্তি, পরাক্রম, অগ্নি ও ভাতৃ-কারক হিসাবে বিবেচিত।

– মঙ্গল সাহস, তেজ ও বীরত্বের প্রতীক।

– শল্য-চিকিৎসক, বীর-যোদ্ধা, দক্ষ কারিগর, সৈনিক প্রভৃতি ব্যক্তিরা মঙ্গলের অনুগ্রহপুষ্ট হন।

– অশুভ স্থানস্থ মঙ্গল অস্ত্রপ্রচার, দুর্ঘটনা এমনকি অকাল মৃত্যুর কারণও হয়ে থাকে।

– মঙ্গল স্বামীহানি বা পত্নীহানির অন্যতম কারক গ্রহ।

– রবি ও চন্দ্র দ্বারা সৃষ্ট যা কিছু ঘটনা মঙ্গল সেই সব কিছুকে সক্রিয় বা সজীব করে তোলে।

– মঙ্গল শুভ হলে জাতক জাতিকারা অত্যন্ত সাহসী, শৌর্য-বীর্যের প্রতীক, ভূ-সম্পত্তি লাভ, ভালো প্রশাসক হতে পারে।

– মঙ্গল একটি রাশিতে প্রায় দেড় মাস থাকে।

– এটি মকর রাশিতে উচ্চস্থ (শক্তিশালী) এবং কর্কট রাশিতে নীচস্থ (দুর্বল) হয়।

– এই গ্রহের মিত্র গ্রহ হলো- রবি, চন্দ্র ও বৃহস্পতি এবং শত্রূ গ্রহ হলো বুধ ও কেতু।

– দুর্বল মঙ্গল দাম্পত্য জীবনে অশান্তি বয়ে আনে।

তাই বিবাহ বিচারের ক্ষেত্রে মঙ্গলের গুরুত্ব সর্বাধিক।

দ্বাদশ রাশিতে মঙ্গলের প্রকৃতি কি রূপ ?

জন্মকুণ্ডলীতে মঙ্গলের শুভ-অশুভ প্রভাব দেখে নেওয়ার পাশাপাশি বিবাহ বিচারের ক্ষেত্রে অতীব গুরুত্বপূর্ণ এই মঙ্গল কোন রাশিতে থাকলে জাতক জাতিকার প্রকৃতি কিরূপ হতে পারে তা এখানে বিবৃত হলো –

মেষরাশি: বীর, পরাক্রমী. শীঘ্র সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী।

বৃষ রাশি: অহংকারী, কামুক, সৌজন্যহীন, স্বার্থপর।

মিথুন রাশি: ক্ষমতাশালী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী।

কর্কট রাশি (নীচস্থ): সাহসী, পরাক্রমী, ভালো মানুষ।

সিংহ রাশি: সদাচারী, কার্য-কুশল, স্নেহশীল, বীর।

কন্যা রাশি: চতুর, মেধাবী, চরিত্রহীন।

তুলা রাশি: ব্যভিচারী, ক্রূর, কলহ-পরায়ণ।

বৃশ্চিক রাশি (স্বরাশি): সাহসী, স্বার্থপর, ঈর্ষাপরায়ণ।

ধনু রাশি: উচ্চাকাঙ্ক্ষী, ক্ষমতাপরায়ণ।

মকর রাশি( উচ্চস্থ ): শৌর্য-বীর্যের প্রতীক, উচ্চাভিলাষী।

কুম্ভ রাশি: ভগ্ন স্বাস্থা, নির্ধন, মিথ্যাচারী।

মীন রাশি : অবিশ্বাসী, কামুক, সম্পদশালী, রাজ্ অনুগ্রহকারী।

দ্বাদশ ঘরে মঙ্গলের গুরুত্ব কতটা ?

এবার দেখা যাক বিবাহ বিচারের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ গ্রহ মঙ্গল জন্মকুন্ডলীর কোন ঘরে থাকলে জাতক জাতিকার স্বভাব চরিত্র কেমন হতে পারে।

প্রথম ঘরে : অহংকারী, ভাগ্যহীন,ত্যাগী।

দ্বিতীয় ঘরে  : অধার্মিক, ক্রূর, বলশালী।

তৃতীয়া ঘরে : নীরোগ, ক্ষমতাশালী, সৌভাগ্যশালী, সামর্থ্যবান।

চতুর্থ ঘরে : রুগ্ন, দুঃখপরায়ণ, ঈর্ষাকাতর।

পঞ্চম ঘরে : ভীরু, ব্যভিচারী, আইনভঙ্গকারী।

ষষ্ঠ ঘরে : সুখী, নীরোগ, সম্পদশালী।

সপ্তম ঘরে: নির্ধন, চরিত্রহীন, সন্তানহীন, বিধবা অথবা বিপত্নীক।

অষ্টম ঘরে: দুর্ভাগ্যশালী, পাপী, অত্যাচারী, অধর্মী।

নবম ঘরে: দুঃখ-বিলাসী, অধার্মিক, অন্যায়কারী।

দশম ঘরে: সাহসী, পরাক্রমী, অধার্মিক।

একাদশ ঘরে: সৌভাগ্যশালী, উচ্চাভিলাষী, ন্যায়পরায়ণ।

দ্বাদশ ঘরে: স্বামী / পত্নী সুখ থেকে বঞ্চিত, অহংকারী, রাগী।

মাঙ্গলিক দোষ আছে তা হয়তো জানেন কিন্তু জানেন কি সেটা কতটা তীব্র ?

যদি কোন জাতক জাতিকার জন্মকুণ্ডলীতে মাঙ্গলিক দোষ দেখা যায় তবে তার সূক্ষাতিসূক্ষ বিচার-বিশ্লেষণ অত্যন্ত জরুরি নতুবা ভুল বিচার হতে পারে। বিদগ্ধ জ্যোতিষ বিশারদ যিনি ঠিকুজি কুষ্ঠির  পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচারে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে থাকেন – সম্ভব হলে তাঁর সাহায্য নিয়ে নির্ভুল বিচার করান এবং সঠিক ফলাফল পান। কারণ মাঙ্গলিক দোষ থাকলেই যে প্রতিটি জাতক জাতিকার বিবাহিত জীবন সংকটময় হবে তাঁর কোনো মানে নেই। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে মাঙ্গলিক দোষ থাকা সত্ত্বেও বহু জাতক জাতিকা সারাজীবন সুখ-শান্তিতেই সংসার জীবন প্রতিপালন করছেন।

বহুক্ষেত্রে মাঙ্গলিক দোষ যেমন নিজে থেকেই খণ্ডন হয়ে যায়, তেমনি মাঙ্গলিক দোষ যদি অত্যন্ত তীব্র হয় তবে সংসার জীবন তছনছও হয়ে যেতে পারে। তাই জন্মকুণ্ডলীতে যদি এই দোষ পরিলক্ষিত  হয় তবে তা কতটা তীব্র সেই বিচার-বিশ্লেষণও একান্তভাবে প্রয়োজন। এক্ষেত্রে কোনো বিদগ্ধ জ্যোতিষ বিশারদের পরামর্শ নেওয়াই একান্তভাবে আবশ্যক।

মাঙ্গলিক দোষ কখন কতটা তীব্র হতে পারে তা সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলো। তবে মনে রাখা প্রয়োজন নিম্নযোগে লগ্নের সাথে অবশ্যই চন্দ্রের লগ্ন, শুক্রের লগ্ন এবং রবির লগ্ন যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।

১. যদি জাতক জাতিকার জন্মকুণ্ডলীতে মঙ্গল কেবলমাত্র প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ, সপ্তম, অষ্টম এবং দ্বাদশ ঘরে অবস্থান করে তবে তা একগুন বা সাধারণ মাঙ্গলিক হিসাবে বিবেচিত হয়।

২. জন্মকুণ্ডলীতে যদি মঙ্গল প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ, সপ্তম এবং দ্বাদশ ঘরে নিজের নীচস্থ রাশি অর্থাৎ  কর্কট রাশিতে অবস্থান করে সেক্ষেত্রে দ্বিগুণ মাঙ্গলিক যোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে।

৩. যদি নীচস্থ মঙ্গলের সঙ্গে অন্য কোনো পাপ গ্রহের সন্নিবেশ ঘটে সেক্ষেত্রে তা ত্রিগুণ মাঙ্গলিক সৃষ্টি করে।

৪. আবার নীচস্থ মঙ্গল ছাড়া মাঙ্গলিকের সঙ্গে কোনোভাবে দুটি পাপ গ্রহের অবস্থান হয় সেক্ষেত্রে তা ত্রিগুণ মাঙ্গলিক দোষ সৃষ্টি করে।

৫. মঙ্গলের সঙ্গে যদি সমস্ত পাপ গ্রহের সহাবস্থান কোনো জন্মকুণ্ডলীতে পরিলক্ষিত হয় তবে তা জাতক জাতিকার জীবনে ঘোরতর বিপর্যয় ডেকে আনে।

মঙ্গল কখন কিলার বা ঘাতক ?

পূর্বেই বলা হয়েছে বিবাহ বিচারের ক্ষেত্রে মঙ্গলের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এইরকম আরো কিছু ক্ষেত্র আছে যেখানে এই মঙ্গল গ্রহের কুপ্রভাব সত্যি জাতক জাতিকার জীবনে অমঙ্গল ডেকে আনতে পারে। তবে সবথেকে ভয়ঙ্কর যোগ হলো ভৌম পঞ্চক যোগ আবার ভৌম পঞ্চক ছাড়াও নিম্নলিখিত আরো যে ক্ষেত্রে মঙ্গল গ্রহ কিলার বা ঘাতকের ভূমিকা অবলম্বন করতে পারে তাঁর কতকগুলি ব্যক্ত করা হলো-

১. যদি মঙ্গল সপ্তম ঘরে এবং শনি লগ্নে অবস্থান করে।

২.যদি শনি সপ্তম ঘরে এবং মঙ্গল লগ্নে অবস্থান করে।

৩. যদি মঙ্গল সপ্তম ঘরে এবং শনি অষ্টম ঘরে অবস্থান করে।

৪. যদি মঙ্গল অষ্টম ঘরে এবং শনি সপ্তম ঘরে অবস্থান করে।

৫. যদি মঙ্গল সপ্তম ঘরে এবং শনি দ্বিতীয় ঘরে অবস্থান করে।

৬. যদি মঙ্গল অষ্টম ঘরে এবং শনি দ্বিতীয় ঘরে অবস্থান করে।

৭. যদি মঙ্গল এবং শনি সপ্তম অথবা অষ্টম ঘরে একসাথে অবস্থান করে। তাহলে সেই মঙ্গল গ্রহ জাতক জাতিকার ক্ষেত্রে কিলার বা ঘাতকের ভূমিকা পালন করতে পারে

মাঙ্গলিক দোষ কিন্তু সবক্ষেত্রেই আতঙ্কের নয়। কিছু ক্ষেত্রে এই দোষ নিজে থেকে খণ্ডন হয়ে যায়। জাতক জাতিকার জন্মকুণ্ডলীতে মাঙ্গলিক দোষ থাকলে সবসময় তা ঘাতকের ভূমিকা পালন করে না।

১. জন্মকুণ্ডলীতে যদি প্রথম ঘরে মেষের, চতুর্থ ঘরে বৃশ্চিকের, সপ্তম ঘরে মকরের,অষ্টম ঘরে কর্কটের এবং দ্বাদশ ঘরে ধনু রাশির ক্ষেত্রে মঙ্গল অবস্থান করে তবে মাঙ্গলিক দোষ খণ্ডন হয়।

২. জন্মকুণ্ডলীতে মাঙ্গলিকভাবে মঙ্গলের সঙ্গে বৃহস্পতি বা চন্দ্র যখন একসঙ্গে অবস্থান করে তখন মাঙ্গলিক দোষ খণ্ডন হয়ে যায়।

৩. জন্মকুণ্ডলীতে যদি মঙ্গল কোনো মাঙ্গলিকভাবে অবস্থান করে এবং সেই সঙ্গে বৃহস্পতি, বুধ বা চন্দ্র অবস্থান করে অথবা এদের মধ্যে কোনো গ্রহ দ্বারা সৃষ্ট হয়, সেক্ষেত্রেও মাঙ্গলিক দোষ নিজে থেকে খণ্ডন হয়ে যায়।

৪. জাতক জাতিকার জন্মকুণ্ডলীতে যে কোনোভাবে মাঙ্গলিক দোষ থাকুক না কেন মঙ্গল যদি দুর্বল হয় এবং লগ্ন অর্থাৎ প্রথম ঘরে অথবা সপ্তমে শক্তিশালী বৃহস্পতি অথবা শুক্র অবস্থান করলে মাঙ্গলিক দোষ দূর হয়ে যায়।

৫. মঙ্গল যদি চতুর্থ ঘরে বৃষ বা তুলা রাশিতে অবস্থান করে – তাহলে সেইক্ষেত্রে মাঙ্গলিক দোষ কোনো ক্ষতি করে না।

৬. দ্বাদশ ঘরে যদি মঙ্গলের কারণে দোষ উৎপন্ন হয় তবু মঙ্গল যদি বুধের রাশি অর্থাৎ মিথুন বা কন্যায় অবস্থান করে তবে মাঙ্গলিক দোষ নিজে থেকে খণ্ডন হয়ে যায়।

৭. মাঙ্গলিক দোষ যুক্ত জন্মকুণ্ডলীতে যদি শক্তিশালী চন্দ্র কেন্দ্রে অবস্থান করে সেক্ষেত্রে মাঙ্গলিক দোষ দূরীভূত হয়।

৮. মাঙ্গলিক দোষযুক্ত জাতক জাতিকার জন্মকুণ্ডলীতে যদি সপ্তম ঘরে মেষ এবং শুক্র শক্তিশালী হয় অথবা সপ্তমে অবস্থান করে তবে মাঙ্গলিক দোষ অনেকাংশে খণ্ডন হয়ে যায়।

৯. যদি জাতক জাতিকার যে কোনো একজনের জন্মকুণ্ডলীতে মাঙ্গলিক দোষ থাকে এবং  অন্যজনের জন্মকুণ্ডলীতে সেই স্থানের কোনো অংশে পাপ গ্রহ অবস্থান করে তাহলে মাঙ্গলিক দোষ নিজে থেকেই খণ্ডন হয়ে যায়।

১০. মেষ, বৃশ্চিক, মকর, সিংহ এবং মিন রাশির জাতক জাতিকার ক্ষেত্রে মাঙ্গলিক দোষ খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনা।

১১. মঙ্গলের উপর যদি বৃহস্পতির দৃষ্টি থাকে অথবা বৃহস্পতির সঙ্গে মঙ্গল অবস্থান করে বা শুক্র দ্বিতীয় ঘরে অবস্থান করে অথবা চন্দ্র শক্তিশালী হয়ে কেন্দ্রে অবস্থান করে, তাহলেও মাঙ্গলিক দোষ নিজে থেকেই খণ্ডন হয়ে যায়।

মঙ্গলব্রত মাঙ্গলিক দোষ নিবারণের একটি অনবদ্য উপায়

মাঙ্গলিক দোষ নিরসনের জন্য মঙ্গলব্রত উদযাপন অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপায়। যে জাতক জাতিকার জন্মকুণ্ডলীতে মাঙ্গলিক দোষ দেখতে পাওয়া যায় তারাই শুধু এই ব্রত উদযাপন করবে।

পাঠকের সুবিধার্থে নিম্নে আলোচনা করা হলো –

– শুক্ল পক্ষের প্রথম মঙ্গলবার এই ব্রত শুরু করতে হবে।

– ওই দিন একদম ভোরবেলা স্নান করে শুদ্ধবস্ত্রে, শুদ্ধচিত্তে কুলদেবতাকে স্মরণ করে এই ব্রত শুরু করতে হবে।

– নির্বাচিত স্থানটি গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধ করে নিতে হবে।

– একটি তামার পাত্র রেখে তার উপর একটি লাল শালুর কাপড় সুন্দর ভাবে ভাঁজ করে রেখে দিন।

– এরপর তার উপর একটি মঙ্গল যন্ত্রম রাখুন।

– ফলমূল, নৈবেদ্য সাজিয়ে ধুপ-ধুনা দিয়ে যন্ত্রমটিকে পূজা করুন।

– পূর্বদিকে মুখ করে পূজা করুন।

– এরপর মাঙ্গলিক দোষ খণ্ডনের জন্য মঙ্গল দেবতার সন্নিকটে আপনার মনোস্কামনাপূর্বক প্রার্থনা করুন।

– কুমারী মেয়েদের ক্ষেত্রে মাঙ্গলিক দোষ থাকলে তা কুমারী অবস্থায় যত শীঘ্র সম্ভব মঙ্গলব্রত নিয়মিত পাঠ করা উচিত। তাতে মাঙ্গলিক দোষ দ্রুত খণ্ডন হয়ে যাবে।

– বিবাহিত মেয়েদের ক্ষেত্রে যদি মাঙ্গলিক দোষের কারণে দাম্পত্য জীবন বিপর্যস্ত হয় তবে এই দোষ যথাযথ উপায় খণ্ডন করে নেওয়া প্রয়োজন নতুবা বিবাহিত জীবনে নিত্য অশান্তি, সাংসারিক অত্যাচার, স্বাস্থহানী, সন্তান প্রাপ্তিতে বাধা, বিবাহ বিচ্ছেদ সহ নানা রকমের দুর্ভোগ দেখা দিতে পারে।

মঙ্গল স্তোত্রম অত্যন্ত কার্যকরী একটি শাস্ত্রীয় প্রতিবিধান।

মাঙ্গলিক দোষের কুপ্রভাব দূরীভূত করার জন্য যে কোনো উপায়ই গ্রহণ করে থাকুন না কেন, একই সঙ্গে  যদি মঙ্গল স্তোত্রম নিয়মিত ও নিষ্ঠাসহকারে পাঠ করা যায় তাহলে মাঙ্গলিক দোষ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে খণ্ডন হতে পারে। এই মঙ্গল স্তোত্রম পাঠকের সুবিধার জন্য নিম্নে বিবৃত করা হলো –

শুক্লপক্ষের যে কোনো মঙ্গলবার নিরামিষ আহার করে এই স্তোত্রম শুভারম্ভ করা উচিত

রক্তপ্রবাল বা লাল পলা ধারণ করে নিলেই সবক্ষেত্রে মাঙ্গলিক দোষ খণ্ডন হয়ে যায় না।

মাঙ্গলিক দোষ খণ্ডনের জন্য অনেকেই রক্তপ্রবাল ধারণ করে থাকেন। কিছুক্ষেত্রে রক্তপ্রবাল মাঙ্গলিক দোষ খণ্ডনের জন্য কাজ করে থাকে। তবে সব ক্ষেত্রে যে শুধুমাত্র রক্তপ্রবাল ধারণ করে নিলেই মাঙ্গলিক দোষ খণ্ডন হয়ে যাবে – একথা সুনিশ্চিত করে কখনোই বলা যায় না। কারণ রক্তপ্রবাল মঙ্গলের রত্ন হলেও সংশ্লিষ্ট জাতক জাতিকার মাঙ্গলিক দোষ কি প্রকারের বা কতটা তীব্র, তা ওই জাতক জাতিকার জন্মকুন্ডলি পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বিচার বিশ্লেষণ করে তবেই রক্ত প্রবাল ধারণ করা উচিত। মাঙ্গলিক দোষ সম্পন্ন জাতক জাতিকার শুধুমাত্র একটি খাঁটি রক্তপ্রবাল ধারণ করে নিলেই যে ওই দোষ খণ্ডন হয়ে যাবে – একথা মনে করার কোনো কারণ নেই। উক্ত রক্তপ্রবাল ধারণের পাশাপাশি মঙ্গলের স্তোত্রম, বীজমন্ত্র, মঙ্গলের ব্রত যদি নিয়মিত পালন করা যায়, তবে অতি সত্ত্বর জাতক জাতিকার মাঙ্গলিক দোষ খণ্ডন হয়ে সাংসারিক জীবনে সুখ-শান্তি পুনরায় ফিরে আসাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শ্রী হনুমান চালিশা পাঠ:

মাঙ্গলিক দোষ খণ্ডনের জন্য বজরংবলীর ব্রত উদযাপনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতি মঙ্গলবার নিরামিষ আহার ও শ্রী হনুমান চালিশা পাঠ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে। অধিকাংশ পুস্তক বিপণন কেন্দ্র থেকে অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে এই হনুমান চালিশা পুস্তক সংগ্রহ করতে পারেন। তবে সবটাই নির্ভর করছে আপনার জন্মকুণ্ডলীতে মাঙ্গলিক দোষের তীব্রতা কতটা তার উপর। এই বিষয়ে আপনার পারিবারিক জ্যোতিষ উপদেষ্টা অথবা কোনো অভিজ্ঞ জ্যোতিষশাস্ত্রবিদের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মাঙ্গলিক দোষ কি শুধুমাত্র নারীদের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়?

অনেকেরই ভ্রান্ত ধারণা আছে যে শুধুমাত্র নারীদের মধ্যেই এই মাঙ্গলিক দোষ দেখা যায়।এধারণা একেবারেই ভিত্তিহীন। মাঙ্গলিক দোষ এমন একটি ভয়ঙ্কর দোষ যা নারী পুরুষ নির্বিশেষে উভয়ের ক্ষেত্রেই  সমানভাবে দেখ দিতে পারে। আবার প্রয়োজনীয় প্রতিবিধানের মাধ্যমে নারী পুরুষ উভয়ই এই দোষ থেকে সমানভাবে মুক্তি পেতে পারে।

মাঙ্গলিক দোষ খণ্ডনের উপযুক্ত সময় ঠিক কখন?

মাঙ্গলিক দোষ যদি জাতক জাতিকার জন্মকুণ্ডলীতে দেখা যায়, তবে তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খন্ডন করে নেওয়াই সঙ্গত। নিজেদের অবহেলায় দোষের তীব্রতা ও তার ফল জাতক জাতিকার জীবনে ভয়ানক দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে। আবার অনেকের ধারণা থাকে যে বিবাহের আগে মাঙ্গলিক দোষ প্রতিবিধান না করে থাকলে বিবাহ পরবর্তী সময়ে তা করে কোনো লাভ নেই। এই ধারণাও সম্পূর্ণ ভ্রান্ত।  যদি কোনো কারণে বিবাহের পূর্বে মাঙ্গলিক দোষের যথোপযুক্ত প্রতিবিধান না হয়ে থাকে এবং সেই কারণে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি দেখা দেয়, সেক্ষেত্রেও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই দোষের যথোপযুক্ত প্রতিবিধান করে নিলে অনেক সময় ভাঙা সংসারও জোড়া লেগে যায়। মাঙ্গলিক দোষের প্রতিবিধান ঠিক কোন সময়ে করা উচিত তার একটা নির্দেশিকা পাঠকের সুবিধার জন্য নিম্নে বর্ণিত হলো।

শৈশব : কিশোর কিশোরীদের শৈশব অবস্থায় এই দোষের কোনোরূপ প্রতিবিধানের প্রয়োজন নেই।

কৈশোর : কিশোর কিশোরীদের ১২ বছর বয়স হওয়ার আগে এই দোষ প্রতিবিধানের খুব একটা প্রয়োজন না হলেও এরপর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই দোষের যথোপযুক্ত প্রতিবিধান করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। সেক্ষেত্রে বিবাহের সময় অনাবশ্যক তাড়াহুড়ো এড়ানো যায়।

বিবাহযোগ্য বয়স : জাতক জাতিকা বিবাহ যোগ্য হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও যদি কোনো কারণে এই দোষের যথোপযুক্ত প্রতিবিধান করা না হয়ে থাকে, তবে কালবিলম্ব না করে এই দোষের প্রতিবিধান অবশ্যই করে নেওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে বিবাহে অনাবশ্যক বাধা-বিঘ্ন, বিলম্ব কাটানো যেমন সম্ভব হয়, ঠিক তেমনি বিবাহিত জীবনে নানাবিধ ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট, অশান্তি এড়ানো সম্ভব হয়।

বিবাহ পূর্ববর্তী সময় : যদি ওই সময়ে মাঙ্গলিক দোষের প্রতিবিধান না হয়ে থাকে তবে বিবাহ দেওয়ার অন্তত ১-৩ মাস পূর্বে মাঙ্গলিক দোষের যথোপযুক্ত প্রতিবিধান করে নেওয়া একান্ত আবশ্যক।

বিবাহ পরবর্তী সময় : মাঙ্গলিক দোষ থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো কারণে তার যথোপযুক্ত উপায়ে খন্ডন না করে জাতক জাতিকা বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দাম্পত্য জীবনে অশান্তি, ঝামেলা, বিবাহ বিচ্ছেদ, বন্ধ্যাত্ব, স্বাস্থহানী এমনকি স্বামী বা স্ত্রীর জীবনহানি পর্যন্ত হতে পারে।

দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিবাহের ক্ষেত্রে : যে সকল মাঙ্গলিক দোষ যুক্ত জাতক জাতিকার প্রথম বিবাহের অভিজ্ঞতা সুখকর না হওয়ার কারণে অথবা পত্নী বা স্বামীর বিয়োগের কারণে দ্বিতীয়/তৃতীয় বিবাহ হয়, তাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উক্ত দোষের যথোপযুক্ত প্রতিবিধানের ব্যবস্থা করে নেওয়া আবশ্যক  নাহলে পূর্ববর্তী দুঃসহ অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। নিখুঁত বিচার, সঠিক প্রতিকার ও পরমেশ্বরের কৃপা এই দোষ মুক্তির একমাত্র পথ।

মাঙ্গলিক দোষ নিবারণে যে সকল শাস্ত্রসম্মত প্রতিবিধানের কথা এ যাবৎ আলোচনা করা হলো, তা যদি সুচারুভাবে, ত্রূটিমুক্ত উপায়ে ও নিষ্ঠা এবং ভক্তি সহকারে পালন করা যায়, তবে নিশ্চিতভাবে জাতক জাতিকা সহজে এই দোষ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারেন। উপরিউক্ত শাস্ত্রীয় পদ্ধতিগুলি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে শাস্ত্রজ্ঞ পন্ডিতের প্রয়োজন হয়। সমস্যার তীব্রতা যদি বিন্দুমাত্র হ্রাস না পায় তবে বুঝতে হবে জাতক জাতিকা তীব্র মাঙ্গলিক দোষ সম্পন্ন। সেই সঙ্গে অশুভ গ্রহ দৃষ্টি জনিত কারণে তীব্রতম ভাগ্য বিরূপতার শিকার। সেক্ষেত্রে কালবিলম্ব না করে অভিজ্ঞ ও সুশিক্ষিত জ্যোতিষ বিশারদের পরামর্শ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে যে এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় গ্রহ প্রতিবিধানের পাশাপাশি বিশেষভাবে পূজিত ও শোধিত মাঙ্গলিক দোষ নিবারণ যন্ত্রম অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। আবার এই যন্ত্রম তৈরি থেকে শুরু করে তার প্রাণ প্রতিষ্ঠা, পূজা, ধারণ, বীজমন্ত্র পাঠের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা, ভক্তিনিষ্ঠার প্রয়োজন হয়। তবেই তা জাতক জাতিকার ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হিসাবে পরিগণিত হতে পারে। আবার অশুভ গ্রহদোষ জনিত প্রতিবিধানের ক্ষেত্রে শুভ মুহূর্তে ধারণ করা একটি মাত্র প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা খাঁটি রত্ন জাতক জাতিকার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে এ প্রসঙ্গে একথা দ্বার্থহীন ভাষায় বলে রাখা প্রয়োজন –

সব সময় বহুমূল্য রত্ন, কবজ, যন্ত্রমের মাধ্যমেই অশুভ গ্রহ প্রতিবিধানের সমাধান হয় না। অনেকক্ষেত্রে উপরিউক্ত প্রতিবিধান ছাড়াই শুধুমাত্র খাঁটি মূল, টিপস ও টোটকার মাধ্যমেও অনেক সমস্যার সমাধান করা যায়। শুধু প্রয়োজন নির্ভুল জ্যোতিষ বিচার ও সঠিক প্রতিবিধান। এ বিষয়ে একজন সুশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ জ্যোতিষ বিশারদই হয়ে উঠতে পারেন উপযুক্ত পথ প্রদর্শক।

Reviews (0)

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “মাঙ্গলিক দোষ”

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিপিং এবং ডেলিভারি